মির্জা আব্বাস কে জাতির নতুন ‘পিতা’ ঘোষণা
নিজস্ব প্রতিবেদক | স্থান: ‘নিখিল বাংলা অন্ধ চাটুকার ও বিশিষ্ট চাঁদাবাজ’ কল্যাণ সমিতি
রাজনীতিতে ইস্যু না থাকলে ইস্যু আমদানি করতে হয়—এই ধ্রুব সত্যকে পুঁজি করে সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী হলো চায়ের টংয়ের পেছনের গলি। যখন পকেট গড়ের মাঠ আর ফুটপাথের চাঁদাবাজি শেষ, তখনই উদয় হয় এক ‘ঐশ্বরিক’ বুদ্ধি: নেতাকে খুশি করে আখের গোছাতে হবে। আর সেই লক্ষ্যেই এবার মির্জা আব্বাসকে ‘জাতির পিতা’ বানানোর এক অভিনব দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছে একদল অতি-উৎসাহী অনুসারী।
দৃশ্যপট: যখন বুদ্ধিহীনতা আর তেলবাজি হাত মেলায়
ঘটনার সূত্রপাত সমিতির প্রধান কার্যালয়ে। এলাকার ‘বড় ভাই’ এবং তার সুযোগ্য ‘পাতি-নেতা’র মধ্যকার কথোপকথন যেন বর্তমান সময়ের সুবিধাবাদী রাজনীতির এক নগ্ন দর্পণ।
-
সংকট: নতুন বিল্ডিং উঠছে না, ফুটপাথ খালি—অর্থাৎ আয়ের উৎস বন্ধ।
-
সমাধান: নেতাকে এমন এক উচ্চতায় বসানো, যাতে ভক্তি আর ভয়—উভয় দিক থেকেই পকেট ভারী হয়।
পাতি-নেতার যুক্তি ছিল দেখার মতো। লজিক বা ইতিহাসের ধার না ধেরে সে প্রস্তাব দেয়, মির্জা আব্বাসের ‘স্টাইল’ আর ‘গেটআপ’-এর ওপর ভিত্তি করেই তাকে জাতির পিতা ঘোষণা করা হোক। কারণ, তাদের মতে রাজনীতি লজিকের নয়, বরং ‘আবেগের ঠিকাদারি’।
লজিকের কবলে আবেগ: ‘ভাই যখন হাঁটে, মাটিও সালাম দেয়’
চাটুকারিতার এই নতুন স্তরে যুক্ত হয়েছে অদ্ভুত সব বিশেষণ। পাতি-নেতার দাবি, বড় ভাইয়ের হাঁটাচলায় মাটি সালাম দেয় আর তার কথায় নাকি আকাশ-বাতাস (এবং কাক-পক্ষী) স্তব্ধ হয়ে যায়। এই অলীক কল্পনাকে পুঁজি করেই তারা তৈরি করছে প্রেস রিলিজ।
তবে মূল উদ্দেশ্য ভক্তি নয়, বরং ‘ব্যানার ফি’। নাম কা ওয়াস্তে নেতার সম্মান, আর কাম কা ওয়াস্তে দোকানদারদের কাছ থেকে মাথাপিছু ৫০০০ টাকার চাঁদা। প্রতিবাদ করলে মিলছে হুমকি—নেতা যদি ‘পিতা’ হন, তবে চাটুকাররা হলো তার ‘বখাটে সন্তান’। আর বখাটে সন্তানদের হাতে দোকানের সাটার যে নিরাপদ নয়, তা বলাই বাহুল্য।
উপসংহার: চাটুকারিতার সীমা ও চাঁদাবাজির রসায়ন
এক হাতে তেলের ড্রাম (নেতাকে মালিশ করার জন্য) আর অন্য হাতে চাঁদার রশিদ (জনগণকে মালিশ করার জন্য) নিয়ে রাজপথে নেমেছে এই দলটি। এই ঘটনা আরও একবার মনে করিয়ে দিল যে, চাটুকারিতার কোনো নির্দিষ্ট সীমারেখা নেই। যখন তেলবাজি আর চাঁদাবাজি মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়, তখন সেখানে ইতিহাস বা যুক্তি হয়ে পড়ে গৌণ; মুখ্য হয়ে ওঠে কেবল নেতার সন্তুষ্টি আর পকেটের স্ফীতি।
জাতি তাকিয়ে দেখল, একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি কীভাবে ‘ভাই খুশি তো জগত খুশি’ তত্ত্বে এসে ঠেকেছে।